মুগরীর বাচ্চার ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা

 আজকের আলোচনার বিষয়

 মুগরীর বাচ্চার ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা


প্রাকৃতিক ভাবে  মা মুগরী তার ডানা দিয়ে তাপ দিয়ে বাচ্চাদের ব্রুডিং করে থাকে আর আধুনিক খামারে আমরা মেশিন বা কৃত্রিম পদ্ধতিতে এটা করে থাকি।




১. ব্রুডিং বলতে কী বুঝি?

ব্রুডিং হলো মুরগির বাচ্চা ফোটার পর জন্মের শুরুতে তাকে উষ্ণতা, খাবার, পানি, ও পরিচর্যা দিয়ে সুস্থভাবে বড় করে তোলার একটি বিশেষ ব্যবস্থা। এই সময়টা সাধারণত প্রথম ৩ সপ্তাহ, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।

২. ব্রুডিং কেন করবো?

মুরগির বাচ্চা জন্মের পর নিজে থেকে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে।

খাদ্য গ্রহণ ও পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা লাগে।
ব্রুডিং করলে বাচ্চার মৃত্যুহার কমে, দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে ভালো ডিম বা মাংস উৎপাদনে সক্ষম হয়।

৩. ব্রুডিং না করলে কী সমস্যা হতে পারে?

ঠান্ডা লেগে মৃত্যু হতে পারে।

দুর্বল বৃদ্ধি ও রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মৃত্যুহার ৪০-৫০% পর্যন্ত হতে পারে।

সমগ্র খামারের উৎপাদন কমে যায়।

৪. ব্রুডিং বোর্ডের আয়তন

১০০টি বাচ্চার জন্য বোর্ডিং এর পরিধি হবে প্রায় ৪-৫ ফুট ব্যাসার্ধের।

জায়গা হবে প্রতি বাচ্চার জন্য ০.৫ - ১ বর্গফুট।

ধাপে ধাপে বয়স অনুযায়ী স্থান বাড়ানো যাবে।

৫. কিভাবে ব্রুডিং করব?

বৃত্তাকার বোর্ড তৈরি করে তার মধ্যে হিট সোর্স রাখবে।

ব্রুডার হাউস হবে বাতাস চলাচলযুক্ত, খসা ও বৃষ্টিপ্রবণতা মুক্ত।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে (প্রথম সপ্তাহে ৯৫°F/৩৫°C, প্রতি সপ্তাহে ৫°F করে কমানো)।

৬. কী কী যন্ত্রপাতি লাগবে?

ব্রুডার লাইট / হিটার (গ্যাস বা ইনফ্রারেড ল্যাম্প)

থার্মোমিটার

ফিডার ও ড্রিঙ্কার

রাউন্ড ব্রুডিং রিং (বোর্ড/টিন/তাতাল দিয়ে)

লিটার উপাদান (চালভুসি, করাত কুড়া ইত্যাদি)

হাইজিন সামগ্রী (জীবাণুনাশক, গ্লাভস ইত্যাদি)

৭. লিটারের পরিমাণ ও ব্যবস্থাপনা

লিটারের উচ্চতা: ২-৩ ইঞ্চি (৫-৭.৫ সেমি)।

লিটার শুকনা, নরম ও ধুলাবিহীন হওয়া উচিত।

প্রতিদিন ঘাঁটিয়ে দেয়া ও সপ্তাহে ১-২ বার জীবাণুনাশক ছিটানো উচিত।

৮. ব্রুডিং চলাকালে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র



৯. প্রয়োজনীয় টিকা (Vaccination Schedule)

১০. ব্রুডিং চলাকালে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপত্র

সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো রাখা (১২-১৬ ঘন্টা)।

বাচ্চার আচরণ পর্যবেক্ষণ:

ঠান্ডা লাগলে সব বাচ্চা একসাথে গাদাগাদি করে।

গরম লাগলে কোণায় ছড়িয়ে পড়ে।

সুষম খাদ্য: প্রি-স্টার্টার ফিড (২১-২৩% প্রোটিন)।

হাত ধুয়ে ব্রুডার ঘরে প্রবেশ এবং জুতা পরিবর্তন।

বাচ্চার জীবন শুরুটা যত ভালোভাবে হয়, পুরো খামারের ফলন তত ভালো হবে। তাই ব্রুডিং হলো সফল খামার ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ। যথাযথ তাপ, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য, ও ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিত করলেই আপনি সফল ব্রুডিং করতে পারবেন।


বিভিন্ন জাতের ও বিভিন্ন বয়সের মুরগির বাচ্চা, কোয়েল পাখির বাচ্চা  নিতে যোগাযোগ করুন- 01771-017575

কালুখালী, রাজবাড়ী

Facebook-https://www.facebook.com/rmagro010/


Comments